কানে হেড ফোন গুজে রাখি সারাটা সময়,তা গান বাজুক আর নাই বাজুক। একদিন দেখি হেড ফোনের ভলিওম কমালেও সাউন্ড কমছে না। ব্যাপক গবেষণার পর বুঝলাম আমার অবর্তমানে কেউ স্পীকারে কানেকশন দিয়েছিল, আমি ঘন্টা খানেক ধরে হেড ফোন ভেবে স্পীকারে গান শুনছি।
গান খুব দ্রুত পুরনো হয়ে যায়।কোন গান ভাল লাগলে তিন চার দিন শুনি,এরপর আর ভাল লাগার কথা না।
সকাল সকাল ঘুমাতে যাই আজকাল,এই সকাল ৫ টা বা ৬টা।সকালের সৌন্দর্য বা নাস্তা কোনটাই সকালে ওঠার পক্ষে কারণ হিসেবে যথেষ্ট নয়।সকালে হলের বারান্দা থেকে ৭ নাম্বার বাস দেখা বা কেন্টিনের তেলতেলে পরটা - কোনটাই খেতেই ভাল লাগে না।
কারও (বা ক্ষেত্র বিশেষে কারও কারও) কথা ভাবতে ভাবতে ঘুম থেকে ওঠি।না ওঠলেও হয়,হলে ডাকা ডাকি করার কেউ নেই।তবু ডাইনিংয়ের দুপুরের খাবার এবং দিনের শুরু - কোনটাই মিস হয় না।
-কাল সারা রাত নেট ছিল না,এই মড(মডারেটর) ব্যাপার কি?
-শালা!স্যার যে কি কোশ্চেন দিল আজকে,সেকশন বি কিছ্ছু কমন পরে নাই।
-অই কাল রাতে বেন্জামিন বাটন ডাউন লোড হইছে,কঠিন মুভি।
শত কন্ঠের সোরগোল, প্লেট চামচ এর টুংটাং, চেয়ার টানার শব্দ ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি.....
হাত মুছতে মুছতে চেচিয়ে ওঠে কেউ, হায় ভাই, চা সিগ্রেট।
ধোঁয়ায় ধোঁয়ায় ধোঁয়াটে বাতাস, আর সেই বাতাসে ভাসে পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম কাপে চুমুক দেয়ার শব্দ।ক্ষুদ্রতম কাপে কুৎসিততম চা।তাতে দুনিয়ার সমস্ত আয়েস নিয়ে আরএফএলের চেয়ারে হেলান দিয়ে চুমুক ----
মম এক হাতে ধুম্র বাণ
আর হাতে চা'কা পেয়ালা।
পড়তে হবে পড়তে হবে পড়তে হবে........... ফের বিছানায় বসা,কানে হেড ফোন গুজা ইত্যাদি,ইত্যাদি,ইত্যাদি
পড়ি,কি বা কেন পড়ি কে জানে?যে ভদ্রলোক পড়িয়েছেন তিনি নিজেও ক্ষেত্র বিশেষে জানেন না মনে হয়।
নিজের অজান্তেই বিছানায় এলিয়ে পড়ি, আধো ঘুমে কানে আসে রুমমেটের ফিস ফিস।
ফিস ফিস ফিস ফিস ফিস ফিস ফিস ফিস ..............
কথা কথা কথা কথা কথা কথা কথা কথা ...............
রাত যত গভীর হয় কথা তত বাড়ে।ঘরে বাইরে কথা,রুমে বারান্দায় কথা।লেপের নিচে,ছাদে উপর কথা।আকাশে বাতাসে কথা,ভালবাসার কথা।ইলেক্ট্রো মেগনেটিক ওয়েভে শুধু ভালবাসা,আহারে বেচারা ওয়েভের কখনো কি একটু ভালবাসতে ইচ্ছে হয় না?
কোনদিন ভুল করে কবি চলে আসেন।অথবা পরীক্ষা থাকলে এক অসম খেলার প্রস্তুতি নিতে।গিটারের ধুলা ওড়ে---
.............................................
.............................................
.............................................
I had to find the passage back
To the place I was before
.............................................
.............................................
টরেন্ট,মুভি,আইএমডিবি ইত্যাদি,ইত্যাদি,ইত্যাদি এবং এত কিছুর মাঝে আর রাস্তা খুঁজে পাই না।
আর তাই আমি পরিপূর্ন জৈবিক একজন মানুষ সব অপূর্ণ জৈবিক বা অজৈবিক চাহিদা নিয়ে কানে হেডফোন লাগাই।গান বাজে না,আর বাজলেও শুনি না(আড়াইশ টাকার হেডফোনের লংজিভিটি কমবেশ ৩/৪ মাস)।
কেউ কেউ ফোন করে বলে,এই সপ্তায় বাসায় আসবি?
আমার মোবাইলের টাকা শেষ,উত্তর দেয়া হয় না।
হায় রে বাসা,ভাল বাসা বা খারাপ বাসা তবুতো বাসা।কত সহজ বাড়ি যাওয়া,তবু যাওয়া হয় না।
তারপর আবার হেড ফোন,ইলেক্ট্রো মেগনেটিক ওয়েভ,গিটার,মুভি,পরীক্ষা এবং ইত্যাদি,ইত্যাদি,ইত্যাদি.....
---২৭ শে জানুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১০:৫৫
Monday, March 22, 2010
Subscribe to:
Comments (Atom)
